বাংলাদেশ
সংবিধানের যে অনুচ্ছেদের কারণেই রাষ্ট্রপতি হবেন মির্জা ফখরুল, হারবেন কর্নেল অলি

প্রায় ৩৫ বছর পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার ভোটের লড়াই হতে যাচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হবেন তাও প্রায় নিশ্চিত।
কেন ফলাফলটি নিশ্চিত? সংবিধান বলছে, বিএনপির কোনও সংসদ সদস্য দলের বাইরে কোনো ভোট দিতে পারবেন না। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে।
আইনে আরো বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক ভোটার তাহার জন্য নির্দ্দিষ্ট ব্যালটের কাউন্টার ফয়েলে নিজ নাম স্বাক্ষর করিয়া ব্যালট পেপার সংগ্রহ করিবেন। অতঃপর উহার আউটার ফয়েলে তিনি যে প্রার্থীকে ভোট প্রদান করিবেন তাহার নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট স্থানে নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করিয়া ভোট প্রদান করিবেন এবং উহা সংরক্ষিত ব্যালট বাক্সের অভ্যন্তরে রাখিবেন।
উন্মুক্ত ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটিকে একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত করেছে বলে আখ্যায়িত করেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলিম। তার ব্যাখ্যা- যদি কোনো সংসদ সদস্য তার দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দেন, তাহলে সবাই জেনে যাবে। তাই তিনি দলের প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিতে চাইলেও পারবেন না। তিনি তার দলের মনোনীত প্রার্থীকেই ভোট দিতে বাধ্য থাকবেন।
ভোটের হিসাব বলছে, নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ৩৪৯ ভোটার অন্তর্ভুক্ত করেছে। এরমধ্যে বিএনপির ২৪৭ সংসদ সদস্য, তিনজন জোটসঙ্গীসহ বিএনপির নেতৃত্বে ২৫০ ভোট। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য ৯০ জন। এর বাইরে রয়েছেন আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন সদস্য।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করা হলে ১১ দলীয় ঐকের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের আওতায় আসতো। তখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২টি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে তিনটি সরাসরি নির্বাচন, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা ভোট দিয়েছেন। নয়টি পরোক্ষ নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়েছেন। এই পরোক্ষ নির্বাচনগুলোর মধ্যে আটটিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু মাত্র একবার ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সদস্যরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
আজকাল/১০আগস্ট২৬/আজা
শেয়ার
Releted News
বিজ্ঞাপন কর্নার।






