বাংলাদেশ
সচিবালয় নিরাপত্তা নিয়ে এডিসি আবু সাঈদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি

সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগে কর্মরত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) কাজী আবু সাঈদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, তদবির-বাণিজ্য, নিয়োগে অর্থ লেনদেন, অধস্তন পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সচিবালয়ে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত ঘটনার পরও দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এডিসি সাঈদ। এমনকি তার সময়ে একাধিক ডিসি পরিবর্তন হলেও তিনি সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগে থেকে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের সময়ও এডিসি সাঈদ দায়িত্বে ছিলেন। ওই ঘটনার পর সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারীদের।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সচিবালয়ে প্রবেশের একটি ঘটনার সময়ও তিনি দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।
এডিসি সাঈদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের বিভিন্ন ঠিকাদারকে অর্থের বিনিময়ে সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হতো। পাশাপাশি আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে অর্থ লেনদেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ডিএমপিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যাওয়ার পর সাবেক কমিশনার তাকে ঢাকার বাইরে বদলির উদ্যোগ নিলেও পরবর্তী সময়ে অজ্ঞাত কারণে সেই আদেশ কার্যকর হয়নি। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে বারবার তিনি বদলি এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
এডিসি সাঈদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি সচিবালয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কাজ এবং অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এমনকি একজন এডিসি হিসেবে তিনি এএসআই মিজান, নায়েক বিজয়, নায়েক মাহবুব, কনস্টেবল আকাশ, সোহেল ও রুবেলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, তার কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলে কিংবা কোনো কর্মকর্তা তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিভিন্নভাবে তাদের অন্যত্র বদলি করার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি বদলির আদেশ পাওয়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত না করে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দুই কনস্টেবলকে গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রীর দপ্তরে কর্মরত আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বদলি ঠেকাতে তাদের ছাড়পত্র না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে এডিসি সাঈদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি নিজেকে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও জাতীয়তাবাদী ঘরানার ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন—এমন দাবি করা হলেও তার সংশ্লিষ্টতার পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে অভিযোগকারীদের দাবি, সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন একই কর্মকর্তার প্রভাব থাকা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তারা এডিসি কাজী আবু সাঈদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এডিসি কাজী আবু সাঈদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
শেয়ার
Releted News
বিজ্ঞাপন কর্নার।






