সারা বাংলা
স্বাস্থ্যসচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দুদক পুনর্গঠনের পর ব্যবস্থা

স্বাস্থ্য বিভাগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সরকারি টেন্ডারে কারসাজি, চিকিৎসক বদলি ও পদোন্নতি-বাণিজ্যসহ বেপরোয়াভাবে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত আছেন।
এ ব্যাপারে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি দুদক চেয়ারম্যানের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে কমিশন না থাকায় সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। তবে কমিশন পুনর্গঠন হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য সেক্টরের অন্যতম বিতর্কিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচটিএমএসের মালিক আফতাব আহমেদ ও তার সিন্ডিকেটের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই সচিব কামরুজ্জামানের সখ্য রয়েছে। বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট।
ফরিদপুরের বাসিন্দা আফতাব আহমেদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জামাতার ঘনিষ্ঠ ও ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে পরিচিত। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক, মোহাম্মদ নাসিম ও জাহিদ মালেকদের সময়ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ন্ত্রণ করতেন এই আফতাব আহমেদ।
কামরুজ্জামান স্বাস্থ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই আফতাব আহমেদের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা সমমূল্যের ইউরো উপহার হিসেবে নিয়েছেন।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সচিব কামরুজ্জামান মাঝে মাঝেই আবাহনী মাঠের পাশে আফতাব আহমেদের অফিসে যাতায়াত করেন। আফতাব আহমেদ সিন্ডিকেটের প্রভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ইউনিভার্সিটি প্রকল্পের প্যাকেজ-২-এর কাজ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
ওই প্রকল্পে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন, দ্বিতীয় এনডিই এবং তৃতীয় স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং বাদ পড়ার পর, চতুর্থ অবস্থানে থাকা 'মজিদ অ্যান্ড সন্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিকভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন সচিব কামরুজ্জামান।
মজিদ অ্যান্ড সন্সের জমা দেওয়া নথিপত্রে চীনা কোম্পানির মালিকের যে স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে তা ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিধি (ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার) অনুযায়ী, কেনাকাটা ও অর্থ পরিশোধের নথি মন্ত্রী বা নীতিনির্ধারক পর্যায়ে অনুমোদনের কথা থাকলেও সচিব কামরুজ্জামান নিজেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তা অনুমোদন দিচ্ছেন। বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের বিল ও সিএমএসডির বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরাসরি ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা 'পিসি' নেওয়া হচ্ছে, যা এখন স্বাস্থ্য বিভাগে ওপেন সিক্রেট।
বদলি ও পদোন্নতি-বাণিজ্য দুদকে জমা অভিযোগ থেকে জানা যায়, চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের বদলি এবং পদোন্নতি এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
সাধারণ চিকিৎসকদের বদলি বা পদোন্নতির জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা বনিবনা না হলে চিকিৎসকদের ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়।
নেপথ্যে মূল সহযোগী পিএস সাকিব
দুদকে জমা দেওয়া ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, সিন্ডিকেট ধরে রাখা ও কমিশন-বাণিজ্যের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন সচিবের পিএস নাজমুস সাকিব। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাজমুস সাকিব বর্তমানে স্বাস্থ্য সচিবের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি দেখভাল করছেন।
শেয়ার
Releted News
বিজ্ঞাপন কর্নার।






